বুয়েটে আইআরএবি বিভাগ উদ্বোধন, শতকোটি টাকায় হবে ন্যানো ল্যাব

১৩ জুন, ২০২৪ ১০:২৯  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) -এ চালু হলো ইনস্টিটিউট অব রোবটিক্স এন্ড অটোমেশন (আইআরএবি)। বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) নতুন এই ইন্সটিটিউটটি উদ্বোধন করেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় গোলাপ ফুল হাতে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বুয়েট শিক্ষার্থীদের তৈরি করা একটি রোবট- রোবোসেবা। অভ্যর্থনার সময় প্রতিমন্ত্রী রোবটটিকে কেমন আছো লিটল রোবট! তুমি বাংলা বলতে পারো? জানতে চান। তখন উপস্থিত উদ্ভাবকেরা জানান, তাদের তৈরি আরেকটি রোবট আছে, যেটি বাংলা বুঝতে ও বলতে পারে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ সামসুল আরেফিন ও বুয়েটের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা বিভাগটির নানা ধরনের কার্যক্রম ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ঘুরে দেখেন। উপভোগ করেন দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের তৈরি রোবটের বোবটিক নৃত্য।

এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে ন্যানো টেকনোলজি নিয়ে গবেষণার পরিসর বাড়াতে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার বুয়েটে ন্যানো ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় রোবোটটিকে বাংলা বা অন্যান্য ভাষা শেখাতে চাইলে ওপেন এআই ও চ্যাটজিপিটি যোগ করে দিলেই এটি মানুষের সাথে ইন্টরঅ্যাক্ট করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, ন্যানো ল্যাব স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। শিগগিরই শুরু হবে কাজ। রেস্টুরেন্টের ওয়েটার থেকে শুরু করে শিল্পোৎপাদন -- সবক্ষেত্রেই বাড়ছে রোবটের ব্যবহার। পিছিয়ে থাকতে চায় না বাংলাদেশও। রোবটিক্সের পাশাপাশি ন্যানো টেকনোলজিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে বুয়েটে ন্যানো ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে।

‘দেশের শিক্ষার্থীদের মেধার ঘাটতি নেই’ উল্লেখ করে পলক বলেন , তাদের আরও বেশি সুযোগ দিলে তারা নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে। এই যেমন এখন দেশে ওলায়টন ও স্যামসাংয়ের উৎপাদন কারখানায় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের রোবোটিক্স সম্পর্কে আরও বেশি করে শেখা ও জানার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বুয়েটে ইনস্টিটিউট অব রোবটিক্স এন্ড অটোমেশন আমরা স্থাপন করছি। আগামী ২-৩ দশকে প্রযুক্তি আমাদের সবকিছুর আমূল পরিবর্তন করে দেবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাকে খরচ নয়, বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতেন। আমরা রোবোটিক্সকে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কলেজ, স্কুল, এমনকি প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, বুয়েটে রোবোটিক্স থেকে শুরু করে সাইবার সিকিউরিটি, মাইক্রোচিপ ডিজাইনিং, এআই, এই চারটি ক্ষেত্রে যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে যা কিছু সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, সেটা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই। আমাদের ছোট আকারের রোবোটিক্স ল্যাব থেকে আজ রোবোটিক্স ইনস্টিটিউট হচ্ছে। ভবিষ্যতে রোবোটিক্সের উদ্ভাবক, গবেষক, স্টার্টআপগুলো এখান থেকেই তৈরি হবে। সাথে সাথে রোবোটিক্সে দক্ষ জনশক্তি আমরা এখান থেকেই গড়ে তুলতে পারবো।

বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে আমাদের মোবাইল ফোন আমদানি কমেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে শুল্কমুক্ত সুবিধা রেখেছে। ফলে দেশেই তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন হয়েছে এবং এখন দেশেই প্রযুক্তি পণ্যের বৃহৎ যোগান সম্ভব হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে সরকার আরও বেশি সহায়তা করা হবে। শিক্ষার্থীরা নতুন এবং যুগান্তকারী কোনো উদ্যোগ বা উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করলে তাতে সরকার সহায়তা করবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই নির্দেশনা দিয়েছেন রোবোটিক্স, মাইক্রোচিপ ডিজাইনিং, এআই, এবং সাইবার সিকিউরিটি এই চারটি ফ্রন্টিয়ার টেকনোলোজিতে দক্ষ জনবল ও কর্মী তৈরি করতে। আগামীর স্মার্ট পৃথিবীতে স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব তারাই দেবে যারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিক্স, মাইক্রোচিপ ও সাইবার সিকিউরিটিতে দক্ষ ও যোগ্য হবে। ভবিষ্যতে আমাদের কোনোকিছুই প্রযুক্তির বাইরে থাকতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের রোবটের চাহিদা পূরণে কাজ করবে বুয়েটের রোবোটিকস ইন্সটিটিউট। এতে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা কাজ করবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।